Monday, September 1, 2025

দেশে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট ব্যবহার শুরু

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন

বাংলাদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই অত্যাধুনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে চীন সরকার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসার জায়গা হিসেবে নয়, বরং বৃহৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চীন ৫৭টি রোবট সরবরাহ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই কেন্দ্রটি যেন টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেজন্য চীন সরকার আরও সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন স্টাফকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশিদের জন্য চীনের হাসপাতালে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের জন্য “গ্রিন চ্যানেল” চালু করা হয়েছে। আশা করা যায়, ডিসেম্বরের মধ্যে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য চীন সফর করবেন। কেন্দ্রটিতে মোট ৫৭টি রোবট রয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক। এই রোবটগুলো স্ট্রোক, মেরুদণ্ডের আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা বা জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের জন্য নির্ভুল ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে। হাত, পা বা শক্ত হওয়া সন্ধিস্থলের সমস্যার জন্য পৃথক রোবট রয়েছে। যেকোনো ধরনের পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী এখানে সেবা পাবেন। জুলাই আন্দোলনে আহতরা বিনামূল্যে সেবা পাবেন, আর সাধারণ রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা দেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বিএমইউকে প্রযুক্তি স্থানান্তরের কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে হবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জরুরি প্রয়োজনে চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, এই কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে একটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রযুক্তির সুফল যেন সারা দেশের মানুষ পায়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নেবে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.