Tuesday, September 2, 2025

জাতীয় পার্টির ‘কুলিং টাইম’ আবদার নিয়ে রিজভীর জবাব

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে এখন জাতীয় পার্টিকে রক্ষার দায়িত্ব বিএনপির। তিনি রাজনীতিতে একটি ‘কুলিং পিরিয়ড’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের পর দুই বছরের ‘কুলিং পিরিয়ড’ বজায় ছিল, ফলে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতন শুরু করেনি, এটি পরে শুরু হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের কুলিং পিরিয়ড খুবই প্রয়োজন।

এই বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু শেখ হাসিনার আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে কারা রক্ষা করেছে? কারা ১৬ বছর ধরে জনগণের লক্ষ কোটি টাকা পাচারের সুবিধা করে দিয়েছে? কারা এই দেশে আওয়ামী ভয়ঙ্কর স্বেচ্ছাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করেছে? তার মধ্যে একটি হচ্ছে জাতীয় পার্টি। আপনারা এখন কুলিং টাইম চান। ২০০৮-২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা দুই বছরের কুলিং টাইম দিয়েছিলেন, তারপর নির্যাতন শুরু করেছেন। বিএনপি কখনো নির্যাতনে বিশ্বাস করে না। কুলিং টাইম আবার কিসের? আর নির্যাতন-ই বা কিসের? বিএনপি তো ক্ষমতায় নেই। এখন তো নির্বাচনই হয়নি। বিএনপি কখনো, কোনো অবস্থাতেই বেআইনি নির্যাতন বা অত্যাচারে বিশ্বাসী নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেছেন, জাতীয় পার্টির দায় এখন বিএনপিকে নিতে হবে। বিএনপি তো রাষ্ট্রক্ষমতায় নেই। এখনো তো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তাহলে আপনি কিসের দায়ের কথা বলছেন? নুরুল হক নুর, ডাকসুর সাবেক ভিপি, তাকে একটি কার্যালয়ের মধ্যে আক্রমণ করা হলো। প্রথমে শুনেছিলাম জাতীয় পার্টির সঙ্গে গোলমাল। কিন্তু তাকে যে লাল শার্ট পরা লোক আঘাত করছে, সে কে? যে কেউ কারো বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে, এটা গণতন্ত্রের স্বীকৃত পন্থা।” রিজভী বলেন, “আমরা প্রত্যেকে ভুক্তভোগী। আমরা সবাই সর্বনিম্ন ৫০০ মামলায় আক্রান্ত। আমরা যারা আক্রান্ত, কিন্তু আমরা চাই না আমাদের সামনে অন্য কেউ লাঞ্ছিত হোক। কিন্তু যারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করেছে, ফ্যাসিবাদের বয়ানে সুর মিলিয়েছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। জনগণ তাদের বিচার দেখতে চায়।” তিনি আরও বলেন, “যারা রাজনীতির কথা বলছেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন। বিএনপির যদি সমালোচনার কিছু থাকে, তাহলে বিএনপি সেখানে সমালোচনা করবে। আপনি কেন বলছেন বিএনপি জাতীয় পার্টির দায়িত্ব নেবে? আপনারা কারা? ইলিয়াস আলী গুম হলেন, তখন কোথায় ছিলেন? চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু গুম হলেন, তখন জাতীয় পার্টি কোথায় ছিল? ছাত্র ও যুব নেতারা গুম হলেন, তখন জাতীয় পার্টি কোথায় ছিল?”
রিজভী আরও বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার ছিল না, কুকুর-বিড়াল, গরু-ছাগল ঘুরছিল। তখন আপনারা ‘যাবো না, যাবো না’ বলেও নির্বাচনে গেলেন। ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলে প্রায় ৪৫ জন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হলো। শেখ হাসিনা চায়নি বিএনপি নির্বাচনে আসুক। সেদিন জাতীয় পার্টি কী ভূমিকা পালন করেছে?”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.