রাজধানীর অভিজাত বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১২ নম্বর সড়কের একটি দ্বিতল ভবনে বড় করে টানানো রয়েছে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বীর আবু সাঈদের ছবি। তার বিপরীতে রয়েছে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ছবি। এছাড়া, বড় করে লেখা জুলাই অভ্যুত্থান এবং ২৪-এর জুলাইয়ের ক্যালেন্ডার। বাইরে থেকে দেখে যে কেউ ভাবতে পারে এটি জুলাই আন্দোলনের কোনো স্মৃতি সংগ্রহশালা বা জাদুঘর।কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখ ধাঁধিয়ে যায়। অভ্যর্থনা কক্ষে ঝুলছে ক্যাসিনো কাণ্ডে বারবার আলোচিত ও জেল খাটা সেলিম প্রধানের ছবি। পরক্ষণেই বোঝা যায়, এটি আসলে তার নেক্সাস ক্যাফে প্যালেস নামে একটি রেস্টুরেন্ট। তবে, রেস্টুরেন্টের নামের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সের কোনো মিল নেই। গুলশান থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই অভিজাত এলাকায় অবস্থিত রেস্টুরেন্টটি আড়ালে চালাচ্ছিল অবৈধ সিসা বার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে এই ভবনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন জুলাই আন্দোলনকে পুঁজি করে এই ভয়ংকর ব্যবসার মূল হোতা সেলিম প্রধান। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি। রাত ৩টার দিকে তার ৮ সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ৬.৭ কেজি সিসা, সিসা গ্রহণের সরঞ্জাম এবং নগদ টাকা। এ থেকেই স্পষ্ট, জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে সেলিম প্রধান রেস্টুরেন্টের আড়ালে চালাচ্ছিলেন অবৈধ সিসা বার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিসা বারে সারারাত ধরে দেশের ভিআইপিদের আনাগোনা ছিল। এমনকি এখানে নারী সাপ্লাই ব্যবসাও চলতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে, সেলিম প্রধানের ভয়ে অনেকেই গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চান না।
২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে পালানোর সময় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন সেলিম প্রধান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের কার্যালয় ও বনানীর বাসায় অভিযানে ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ২৯ লাখ টাকা, ২৩টি দেশের ৭৭ লাখ টাকার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, দুটি হরিণের চামড়া, তিনটি ব্যাংকের ৩২টি চেক এবং অনলাইন গেমিংয়ের একটি বড় সার্ভার জব্দ করা হয়। চার বছর কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে গত জুনে রিপাবলিক পার্টি-বিআরপি গঠিত হলে তিনি এর প্রধান উপদেষ্টা হন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে সম্প্রতি গ্রেফতার এই মাফিয়া ডন, যিনি অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে স্পা, হোটেল, বিউটি পার্লারের আড়ালে নারী সাপ্লাই, চাঁদাবাজি, মাদক, চোরাচালান, বিদেশি নারীদের বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা এবং শত কোটি টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগ। ফ্যাসিস্ট শামীম ওসমানকে ‘বড় ভাই’ বলে ডাকা এই মাফিয়ার অপকর্মের ফিরিস্তি যেন থামছেই না।
Sunday, September 7, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য