Wednesday, February 4, 2026

গণতান্ত্রিক উত্তরণে আওয়ামী লীগ বড় বাধা: ড. মাহবুব উল্লাহ



বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মতো এত বড় আত্মত্যাগের সুফল আমরা আজও পাইনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী গণতন্ত্র ছিল তাদেরই নির্দেশিত। যে কারণে পরবর্তীতে একদলীয় কলঙ্কিত শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ বড় বাধা। তাদের প্রতিহিংসার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ ও দেশের শান্তি বিনষ্টের ঝুঁকি রয়েছে। ক্ষমতার মোহে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তে পরিণত হয়েছিল।’

আজ শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অয়োজনে নির্বাচনী বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যে সব সহিংস ঘটনা ঘটছে তার পেছনেও পতিত স্বৈরাচার ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের মদদ আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি হয়নি, যে কারণে কোনো দেশের দূতাবাস তাদের কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত নিতে হবে। ভারত আমাদের দেশের এই পরিবর্তন ও নির্বাচন মেনে নিতে পারছে না বলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

তিনি বলেনস, ‘আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু গণতন্ত্রচর্চা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হবে। তবে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আরও বহুদূর যেতে হবে। কেবল নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে না। এর জন্য রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশকে সম্পূর্ণ সন্তোষজনক বলা যাচ্ছে না, তবে সহিংস ঘটনার যাতে পুণরাবৃত্তি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

 সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এবারের নির্বাচন ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদের রক্তের প্রতিশোধের নির্বাচন। ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। সমাজ বদলের নির্বাচন। অন্যায়—অত্যাচার, গুম—খুন, হত্যা, মামলা—হামলা, জেল—জুলুমের বিরুদ্ধে নির্বাচন। রাজনীতিতে মতো পার্থক্য থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে, তা যাতে প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। আসন্ন নির্বাচনী প্রচার—প্রচারণায় অতিমাত্রায় বিদ্বেষ, কুৎসা, আক্রোশ রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই সুযোগে গণহত্যাকারী পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী নির্বাচনকে বিতর্কিত ও ভন্ডুলের চেষ্টা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা আমাদের রাজনীতির একটি কালো অধ্যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যাতে সহিংস ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে এখন থেকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিহিংসার আগুন খুবই ভয়াবহ। যা মানুষকে অত্যাচারী করে তোলে। আমরা আশাকরি আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটবে। যারাই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসবে তারা বিরোধী মতকে সাথে নিয়ে হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থার ক্ষতগুলো দূর করবে। সুশাসন ও জবাবদিহি কায়েম করবে।’

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং রানার্সআপ হয় ইডেন মহিলা কলেজ। তৃতীয় স্থান অর্জন করে তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ইডেন মহিলা কলেজের দলনেতা মাসনুন নাবিলাহ আলম। চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লাখ টাকা, রানার্সআপ দলকে দেড় লাখ টাকা ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে এক লাখ টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫০ হাজার টাকা ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক কাজী হাফিজ, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক আফরিন জাহান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল “আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান হবে।



Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.