Thursday, May 15, 2025

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে

ঢাকা, ১৫ মে ২০২৫: রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানার সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে উদ্যানের ভেতরে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব স্থাপনায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমরা এই অভিযান চালাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্যানকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখযোগ্য। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নিহত হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শাহরিয়ার আলম সাম্য’র নিহত হওয়ার ঘটনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তা সংকটকে সামনে এনেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৪ মে) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উদ্যানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, মাদক ব্যবসা বন্ধ, পর্যাপ্ত আলো ও সিসিটিভি স্থাপন, এবং রাত ৮টার পর জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ সাতটি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এই অভিযান সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের একটি অংশ বলে জানা গেছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক স্থান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এখানেই আত্মসমর্পণ করে। এই অভিযানের মাধ্যমে উদ্যানের ঐতিহাসিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং এটিকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জায়গায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.