ঢাকা, ২৯ মে, ২০২৫ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিজয়ী ঘোষিত হন। তবে, নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের দাবিতে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা দায়ের করেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল পূর্বের ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র ঘোষণা করে।
কিন্তু শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। গত ১৪ মে ডিএসসিসির বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে ইশরাকের শপথ বন্ধের আবেদন করেন। এর বিপরীতে, ইশরাকের সমর্থকরা শপথের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, যার ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে নগর ভবন কার্যত অচল।
ইশরাকের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে শপথের ব্যবস্থা নিতে বলেন, উল্লেখ করে যে হাইকোর্টের রায়ে শপথে কোনো বাধা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, শপথ না পড়ানো হলে আদালত অবমাননার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে জানায়, হাইকোর্টে রিট খারিজের পর তারা শপথের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ২৬ মে একজন নাগরিক আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করায় বিষয়টি পুনরায় জটিল হয়ে পড়ে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
ইশরাক হোসেন সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন মেয়রের শপথ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে, ভবিষ্যতে ৩০০ এমপির শপথের ব্যবস্থা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনগণের সন্দেহ রয়েছে।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে আদালত ও জনগণের রায় মেনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে, তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার পদত্যাগ দাবি করেন।
২৯ মে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি নিষ্পত্তি করে জানায়, ইশরাকের শপথের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
ইশরাকের সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণে নগর ভবনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.