গাজা, ১৫ মে ২০২৫: ঐতিহাসিক নাকবা দিবসের ৭৭তম বার্ষিকীতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমা হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গত ১৯ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি হামলার ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
নাকবা দিবস ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শোক ও প্রতিবাদের দিন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় জায়নবাদী সামরিক গোষ্ঠীগুলোর হাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, যা ‘নাকবা’ বা ‘মহাবিপর্যয়’ নামে পরিচিত। এই দিনে ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার, বিশেষ করে উদ্বাস্তুদের ফিরে আসার অধিকার এবং স্বাধীনতার দাবি জানায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে রাতভর এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা হামলায় কমপক্ষে ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকেই শিশু। এছাড়া উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং জাবালিয়াতেও হামলা চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম দেইর এল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, খান ইউনিসে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কোনো সতর্কতা ছাড়াই নয়টি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি এই দিনটিকে গাজার জন্য ‘আরেকটি রক্তাক্ত দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নাকবা দিবস প্রতি বছর ১৫ মে পালিত হয়। এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় জাতিগত নির্মূল, বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ধ্বংসের স্মরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এ.আই/এম.আর
