ঢাকা, ১৫ মে, ২০২৫ : বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খুলতে মালয়েশিয়া চারটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্তগুলো হলো: জনশক্তি রফতানি সংক্রান্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করে অভিবাসন ব্যয় কমানো, সহযোগী এজেন্সি প্রথা বাতিল এবং শ্রমিক প্রেরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
১৫ মে (বৃহস্পতিবার) মালয়েশিয়ার পুত্রজয়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি’র সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল একটি যৌথ বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিক প্রেরণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উল্লিখিত শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মালয়েশিয়া।
শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রবণতা প্রতারণা ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে। অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং সহযোগী এজেন্সি প্রথা বাতিল করা হলে শ্রমিকরা কম খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে, যা প্রতারণার ঝুঁকি হ্রাস করবে। মালয়েশিয়া আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বিরাট সুযোগ।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত শ্রমিক প্রেরণ করা গেলে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রেমিটেন্স পেতে পারে। মালয়েশিয়ায় সাধারণ শ্রমিকদের বেতন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি। দীর্ঘ এক বছর ধরে জটিলতায় আটকে থাকা এই শ্রমবাজার এখন বৈধ পথে খুলছে, যা দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াবে।
বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আগামী ২১ মে ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ.আই/এম.আর
.jpg)