খুলনা, ৩ জুন ২০২৫: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) আগামীকাল বুধবার (৪ জুন) থেকে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হচ্ছে, যা চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। কিন্তু শেষ কর্মদিবস মঙ্গলবারেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০০-এর বেশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের বেতন এবং ঈদের বোনাস পাননি। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন, এবং অনেকে ঈদে কোরবানি দেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বেতন ও বোনাস আটকে যাওয়ার কারণ প্রশাসনিক জটিলতা। গত ২২ মে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. হযরত আলী পদত্যাগ করেন। ব্যাংক থেকে বেতন ও বোনাস ছাড় করতে উপাচার্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন, কিন্তু এ পদ শূন্য থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ২৯ মে কুয়েটের রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চেয়েছেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ১৪ জুন পর্যন্ত ঈদের ছুটি চলবে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মচারী জানান, ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তারা কোরবানি দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। “ঈদে অনেক খরচ। টাকা না থাকায় সবাই বিপদে পড়েছেন। কুয়েটে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি,” তারা বলেন। কুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মঈনুল হকও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া, সাড়ে তিন মাস ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত এবং সেশনজটে পড়েছেন। ঈদের ছুটিতে সাতটি হলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বাড়ি চলে গেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী তৎকালীন উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এরপর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, বেতন ও বোনাস না পাওয়ায় সবাই সমস্যায় পড়েছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগ হলে তাঁর কাছে এ বিষয়ে দাবি জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রার ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বেতন-বোনাস ছাড় করানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২২ মে থেকে উপাচার্য এবং ২৫ এপ্রিল থেকে উপ-উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে।
এ.আই/এম.আর
