Tuesday, June 3, 2025

ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাব কমেছে ৭১৯টি, তবে আমানত বেড়েছে


ঢাকা, ০৩ জুন ২০২৫ : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের হিসাব কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। এটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ৭১৯টি কম, যখন এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি।  

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছু সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও নেতার ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলব করা হয়েছে। এর ফলে বড় অঙ্কের আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, যার ফলে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা কমেছে। তবে কিছু হিসাবে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত ছিল ৭ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।
সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে হিসাব ও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোট ব্যাংক হিসাব ছিল ১৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩২টি, যা ২০২৫ সালের মার্চে বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮২১টি। একই সময়ে মোট আমানত ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ২৪ লাখ ৬০ হাজার এবং আমানত বেড়েছে ৩৯ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কোটিপতি হিসাবগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক ব্যক্তিগত হিসাবও রয়েছে। তাই হিসাব কমার অর্থ ব্যক্তি কোটিপতির সংখ্যা কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে মাত্র ৫টি কোটিপতি হিসাব ছিল। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে হয় ৪৭টি, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি এবং ২০২০ সালে ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। তবে ২০২৫ সালের মার্চে তা কমে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩টিতে নেমে আসে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের কারণে কোটিপতি হিসাব কমলেও মোট হিসাব ও আমানত বৃদ্ধি অর্থনীতিতে আস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.