ঢাকা, ১০ জুন ২০২৫ – শেরে বাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি করা হলেও, শয্যা বরাদ্দ করতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজন নেই এমন অনেক রোগী ছাড়পত্র পেয়েও হাসপাতাল ত্যাগ করছেন না, ফলে নতুন রোগীদের জন্য শয্যা সংকট তীব্র হচ্ছে।
একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, ঈদের দিন বাঁশ দিয়ে আঘাতে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। সকালে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে এসে তিনি ভর্তি হন, কিন্তু শয্যা পাননি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের মধ্যে ৩০ জনের আর হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন না থাকলেও তারা চতুর্থ তলার বি-ব্লকে অবস্থান করছেন। এতে অন্য রোগীদের জন্য শয্যা বরাদ্দ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম বলেন, “জুলাইয়ের আহতদের বিভিন্ন পর্যায়ে ফলো-আপের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সাধারণ শয্যা দখল করে রাখায় নতুন রোগীদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।” হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বি-ব্লক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। কর্তৃপক্ষ জানান, ৫৪ জনের মধ্যে মাত্র ৪-৫ জন উপস্থিত, বাকিরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে গেছেন।
ডা. জানে আলম আরও বলেন, “আহতরা বলছেন, দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসতে হয় এবং রাতে এসে থাকার জায়গা না থাকায় তারা হাসপাতালে থেকে যান।”
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক জানান, ঈদের ছুটির কারণে নিরাপত্তার জন্য বি-ব্লক তালাবদ্ধ থাকতে পারে। ছুটির পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় বৈঠক করবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আগামী শনিবার থেকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করবে, যাতে শয্যা সংকট সমাধান ও রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা যায়।
এ.আই/এম.আর
