চলতি মাসে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান ও নেতৃত্ব। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, এই হামলার পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত গুপ্তচরবৃত্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইসরায়েলি গুপ্তচররা ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করা হয়। এই হামলার পর ইরানে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলের সমর্থনে সংবাদমাধ্যমে প্রচারণা বা জনমত ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরান সরকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভাড়া দেওয়া ভবনের তথ্য সংগ্রহের জন্য জনগণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রমে মানব গোয়েন্দা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাদের সাবেক গবেষণা পরিচালক সিমা শাইন জানিয়েছেন, এই হামলা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা কার্যক্রমের ফল। ইসরায়েলি এজেন্টরা ইরানের অভ্যন্তরে ড্রোন ও মিসাইল স্থাপন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এআই মডেলের সহায়তায় নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, গত সপ্তাহে ইরানের কুদস ফোর্সের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাইদ ইজাদি এবং বেহনাম শাহরিয়ারি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ১৭ জুন ইরানের মেজর জেনারেল আলী শাদেমানিকে বিমান হামলায় হত্যা করা হয়। বিশ্লেষক হামজে আত্তারের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের ৩০-৪০টি সেল কাজ করছে, যারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অস্ত্র পাচার ও আক্রমণ পরিচালনায় জড়িত।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা কার্যক্রম ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ডিভাইসে বিস্ফোরণ, হাসান নাসরাল্লাহ ও হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড এবং ২০১০ সালে স্টাক্সনেট ভাইরাসের মাধ্যমে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা এই কার্যক্রমের উদাহরণ।
ইরানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের শিন বেত সংস্থা সাতজন ইসরায়েলি নাগরিককে ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
এ.আই/এম.আর
