Thursday, June 26, 2025

মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার কমাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

মিথ্যা মামলা এবং এ ধরনের মামলায় অযৌক্তিক গ্রেপ্তার সমাজের সর্বস্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার নতুন বিধান প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ-সংক্রান্ত কার্যালয় (ইউএনওডিসি) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনটি অধিবেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিচার সংস্কার কমিশন, বার কাউন্সিল, পুলিশ, এনজিও এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন। বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উপপ্রতিনিধি ড. সুরুচি প্যান্ট।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “মিথ্যা মামলা ও অযাচিত গ্রেপ্তার কমাতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিধান আনছি। এই বিধানের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করি।” তিনি আরও জানান, ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং গুম-সংক্রান্ত একটি নতুন আইন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মামলাজট কমাতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতি জেলায় এখন তিনজন লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসে আরও ২০ হাজার মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে বলে জানান আসিফ নজরুল।
বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিচারকদের সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, বিচারকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং আদালত কর্মী নিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, আইনি সহায়তা, রাষ্ট্রপক্ষের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মান ও প্রমাণভিত্তিক চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.