ঢাকার একটি আদালত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের সঙ্গে ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক এক ছাত্রীর বিয়ের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই ছাত্রী নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছিলেন। বুধবার (১৮ জুন, ২০২৫) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এ নির্দেশ দেন।
নোবেলের আইনজীবী একটি আবেদনে জানান, নোবেল ২০ মে, ২০২৫ থেকে জেলহাজতে আছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বোঝাবোঝির কারণে মামলাটি দায়ের হয়। বর্তমানে উভয়ে বিয়েতে ইচ্ছুক। আদালত উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের ব্যবস্থা করতে এবং বিষয়টি জানাতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
গত ১৯ মে, ২০২৫ রাত ২টায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইডেন কলেজের সাবেক ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ২০ মে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে দেখা করার পর নোবেল তাকে ‘স্টুডিও দেখানোর’ কথা বলে ডেমরার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে সাত মাস আটকে রাখা হয়, মারধর, ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। পুলিশ জানায়, নোবেলের ২-৩ জন সহযোগীও এতে জড়িত ছিল।
সম্প্রতি নোবেলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি এক নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামাচ্ছেন। ভিডিও দেখে ছাত্রীর পরিবার তাকে চিনে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে ৯৯৯-এ ফোন করেন। ১৯ মে রাত ৯:৩০টায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করে। নোবেল পালিয়ে গেলেও রাত ২টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, নোবেল দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছিলেন এবং একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন।
নোবেল কলকাতার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সঙ্গীত অনুষ্ঠানে গান গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেন এবং ভারত-বাংলাদেশের কয়েকটি সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেন।
এ.আই/এম.আর
