ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৫: টানা ৪৩ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে প্রবেশ করেছেন প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীরা এদিন প্রশাসকের দপ্তর খুলে দেয়, যা গত ১৫ মে থেকে তালাবদ্ধ ছিল।
প্রশাসক শাহজাহান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। আমাদের সামনে অনেক কাজ, সেগুলো আমরা করব। নগরবাসীদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা সব নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখব।” তিনি জানান, আগামী শুক্র ও শনিবারও অফিস খোলা থাকবে এবং সকল সহকর্মীদের নিয়ে কাজ চলবে।
তিনি আগামী দিনগুলোতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান: মশক নিধন কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, এবং আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের নাগরিক সেবাকে আরও কার্যকর করব। আমাদের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সংকটের মধ্যেও আমাদের কাজ বন্ধ ছিল না, তবে আজ থেকে সবাই প্রাণ খুলে কাজে মনোযোগ দেবেন।”
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ডিএসসিসি জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আরিফ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বাবু ‘আমরা ঢাকাবাসী’ ব্যানারে প্রশাসককে স্বাগত জানান এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমরা সিটি করপোরেশনের সব কাজে প্রশাসককে সহযোগিতা করব। প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ গতিশীল করব।”
আরিফ চৌধুরী জানান, “মেয়র ইশরাক হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রশাসককে সহযোগিতা করব। অফিসিয়ালি কোনো অবস্থান কর্মসূচি নেই, তবে আনঅফিশিয়ালি আমরা সতর্ক থাকব যাতে কেউ আতঙ্ক ছড়াতে না পারে।”
গত রোববার আন্দোলনকারীরা প্রশাসক ও সচিবের দপ্তর ব্যতীত অন্যান্য দপ্তর ও আঞ্চলিক অফিস খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মশিউর রহমান বলেন, “নাগরিক সেবা চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মরতদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তবে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের শপথ দেওয়ার দাবিতে নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের শপথ দেওয়ার দাবিতে গত ১৫ মে থেকে ইশরাক সমর্থক ও কর্মচারীদের একাংশ নগর ভবন তালাবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে।
এ.আই/এম.আর
