তেল আবিব, ২০ জুন, ২০২৫: ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর তেল আবিব তার এই আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই গাইতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ নেতারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এই হামলার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রও একই সুরে কথা বলছে। এমনকি ইসরায়েলের কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ইসরায়েলের সাবেক মন্ত্রীর মন্তব্যে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী মেইর মাসরি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানে অভিযানের পর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হবে পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রকল্প। এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরানে ইসরায়েল পরমাণু হামলা চালালে পাকিস্তান পাল্টা জবাব দিতে পারে। তবে ইসলামাবাদ এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য, কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য নয়।”
তবে মাসরির মন্তব্যের পর পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের হোয়াইট হাউস সফর কূটনৈতিকভাবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। ট্রাম্প বলেন, “জেনারেল মুনিরের সঙ্গে দেখা করে আমি সম্মানিত বোধ করছি।”
প্রসঙ্গত, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলেও জেনারেল মুনিরের ‘নির্ণায়ক’ ভূমিকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মুনির ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের আহ্বান জানান, কারণ তিনি ভারত-পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধ প্রতিরোধ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাসরির মন্তব্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন উদ্বেগের সংকেত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।
এ.আই/এম.আর
