Wednesday, June 11, 2025

গাজার দিকে সড়কপথে শত শত অধিকারকর্মীর যাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১১ জুন ২০২৫ : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙতে সড়কপথে গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন শত শত অধিকারকর্মী। তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশ থেকে যাত্রা শুরু করে তারা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পৌঁছেছেন। এখন তারা লিবিয়া হয়ে মিসরের পথে রাফা ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ‘অবিচলিত’ (সুমূদ) নামের এই বহরে রয়েছে কয়েক ডজন বাস ও শতাধিক গাড়ি, যাতে ১,৫০০-এর বেশি অধিকারকর্মী অংশ নিচ্ছেন। পথে আরও অধিকারকর্মী এতে যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

ত্রিপোলিতে বহরটি পৌঁছালে হাজার হাজার মানুষ তাদের উষ্ণ অভিবাদন জানান। লিবিয়ার পুলিশ এই বহরের গাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ত্রিপোলির বাসিন্দা আলা আব্দেল রাজ্জাক (৪৫) এএফপিকে বলেন, “এই বহর আমাদের মধ্যে আনন্দ এনে দিয়েছে।” আরেক নারী সহুর আল-কাতিফ বলেন, “এই বহরের সঙ্গে লিবিয়ার মানুষের কান্না এক হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে আমি গাজায় আছি।”
এই বহরে আলজেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, তিউনিশিয়া ও লিবিয়ার অধিকারকর্মীরা রয়েছেন। তবে লিবিয়ার মিসর সীমান্তবর্তী অংশে অবস্থানরত সরকার এখনও বহরটিকে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন, এই বহরকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না, কারণ এতে তাদের সেনারা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি মিসরের কাছে বহরটির যাত্রা আটকানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে পরিবেশবাদী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১২ জন অধিকারকর্মী ত্রাণবাহী জাহাজে গাজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে জাহাজটি ছিনতাই করে এবং অধিকারকর্মীদের আটক করে। চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিরা এখনও আটক রয়েছেন। এ ঘটনার পরই তিউনিশিয়া থেকে এই সড়ক বহর যাত্রা শুরু করে।
ইসরায়েলের ২০ মাসের যুদ্ধের ফলে গাজায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, গাজা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত অঞ্চল। তবুও ইসরায়েল পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.