ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৫: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সক্ষম সদস্যরা সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন। সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
ফারুক-ই-আজম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত যোদ্ধাদের তালিকা তৈরিতে ৫৪ বছর লাগলেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মাত্র সাত-আট মাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করেছে। তিনি এটিকে সরকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি আলাদা অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ২০ জন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, জুলাই যোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ এবং তাদের ত্যাগ সরকার ও জনগণ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, নিখোঁজ যোদ্ধাদের সন্ধানে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকার বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করেছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাবেন। শহীদ পরিবারগুলো এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাবে, যার মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২০ লাখ টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেওয়া হবে। এছাড়া শহীদ পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবে।
গুরুতর আহত ৪৯৩ জন ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৯০৮ জন এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা পাবেন। ‘সি’ ক্যাটাগরির ১০,৬৪২ জন এককালীন ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা পাবেন।
উপদেষ্টা আরও জানান, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে পালিত হবে। শহীদ পরিবারের মধ্যে ১৩৪টি পরিবারের ওয়ারিশ জটিলতার কারণে পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলেও তা দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
এ.আই/এম.আর
