ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তবে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর অস্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৫) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ব্যাপক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সতর্কতা প্রত্যাহার করে এবং আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসাকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু এরপরই ইরান আবার হামলা চালিয়েছে বলে ইসরায়েলের দাবি।
ইসরায়েল এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তারা তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি দূর করা অন্যতম। তবে, যুদ্ধবিরতির যে কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইরানের উত্তরাঞ্চলের গিলান প্রদেশে একটি হামলায় ৯ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় চারটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের দাবি, এই হামলার পেছনে ইসরায়েলের হাত রয়েছে। তবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং নুর নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তারা চালায়নি।
এই ঘটনা ইসরায়েল-ইরান দ্বন্দ্বে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলছে।
এ.আই/এম.আর
