তেহরান, জুন ২০২৫ – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির (জেসিপিওএ) মতো কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি দেশটির আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবার (২১ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, “আমরা কূটনীতিকে শক্তি হিসেবে দেখি, সংকট হিসেবে নয়। ২০১৫ সালে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে আমাদের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার যে সমঝোতা হয়েছিল, সেই পথে আমরা আবার ফিরতে প্রস্তুত।” তবে তিনি ইসরায়েলকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের বিরোধিতা করে সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে।
২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করেছিল এবং বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দিয়েছে।
ইস্তাম্বুলে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বৈঠকে শনিবার আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা “সবার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক” হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয়।
শুক্রবার জেনেভায় ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আরাগচির আলোচনা কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আঞ্চলিক আগ্রাসনের মধ্যে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যা শান্তি ও সংঘাতের প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
এ.আই/এম.আর
