ঢাকা, ২০ জুন ২০২৫ – গত ১৩ জুন থেকে ইসরায়েলের নির্মম হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। শহরটি এখন প্রায় জনমানবশূন্য। সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ৫০০-এর বেশি বেসামরিক ইরানি নিহত হয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোশি এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত চাভোশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নীরব ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইরানে যা ঘটছে তা যুদ্ধাপরাধ। ইসরায়েল সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করছে।” তিনি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ সব দেশকে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ওআইসি শিগগিরই এই সংকট নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মিত্র এবং শত্রুপক্ষের সম্পৃক্ততায় এই সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে, যা পারস্য উপসাগর তথা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে তেলের দাম বাড়তে পারে। চাভোশি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তেল পরিবহন ব্যবস্থায় ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, দামও বাড়তে পারে।”
রাষ্ট্রদূত জানান, ইসরায়েলের হামলার আগে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। তবে তেহরান এখনও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ ইরানে হামলার নিন্দা করেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার এই লড়াইয়ে বিশ্বের বিবেকমান মানুষ আমাদের পাশে থাকবে।”
যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর এখন চাপ বাড়ছে, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সহিংসতা বন্ধ করা যায় এবং অঞ্চলটিতে আরও অস্থিতিশীলতা রোধ করা যায়।
এ.আই/এম.আর
