তেহরান, ২০ জুন ২০২৫ – ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সুপ্রিম কাউন্সিলের কাছে যুদ্ধকালীন ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। ইরান ইন্টারন্যাশনাল, হিন্দুস্তান টাইমস এবং এমএসএন.কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে খামেনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তার নিরাপত্তা এবং ইরানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, খামেনি তার ছেলে মোজতবাসহ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তেহরানের উত্তর-পূর্বে লাভিজানের একটি নিরাপদ ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে স্থানান্তরিত হয়েছেন। আইআরজিসির সুপ্রিম কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে খামেনির মৃত্যুর ক্ষেত্রে কমান্ডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলেও, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে দেশটি বাস্তবে জরুরি অবস্থার মধ্যে রয়েছে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করা হয়েছে, যা দেশটির সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। আইআরজিসির বিমান বাহিনীর কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ জেনারেলের মৃত্যুর পর খামেনি সামরিক, গোয়েন্দা এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আইআরজিসির হাতে তুলে দিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খামেনির গোপন আস্তানার অবস্থান জানে এবং তিনি একটি “সহজ লক্ষ্যবস্তু”। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এখনই তাকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক নাগরিক বা আমেরিকান সৈন্যদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে হবে, নয়তো আমেরিকার ধৈর্য কমে আসছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ খামেনির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার কারণে খামেনির “অস্তিত্ব বজায় রাখা যাবে না”।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তি আইআরজিসি এখন অভূতপূর্ব ক্ষমতা পেয়েছে, যা খামেনির নেতৃত্ব এবং তার ছেলে মোজতবার সম্ভাব্য উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইরান একটি ঐতিহাসিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে খামেনির শাসন এই চাপ সামলাতে পারবে কি না, নাকি এটি ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করবে।
এ.আই/এম.আর
