Friday, June 20, 2025

ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ: ফিলিস্তিনে অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ইউরোপের ৯ দেশের কঠোর অবস্থান

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল নির্বিচার ও নৃশংস হামলা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই শিশু ও নারী। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পুনরাবৃত্তির মতো এবারও গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার নতুন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েল সরকার সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ২২টি অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে কিছু ‘আউটপোস্ট’ ইতোমধ্যে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। কাটজ বলেন, “এই পদক্ষেপ জুডিয়া ও সামারিয়ায় আমাদের নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে।” বর্তমানে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ১০০টিরও বেশি অবৈধ বসতিতে প্রায় ৫ লাখ বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। এই অঞ্চলে ৩০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে জীবনযাপন করছে, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসন সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ।
এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের জন্য ইসরায়েল এবার ইউরোপের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের প্রকাশিত এক গোপন চিঠি অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৯টি দেশ—বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেন—ইইউ কমিশনকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এসব দেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইইউ ইসরায়েলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে ২০২৪ সালে তাদের দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪২.৬ বিলিয়ন ইউরো (৪৮.৯১ বিলিয়ন ডলার)। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলের দখল ও বসতি স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালত আরও বলেছে, এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক বাণিজ্য বা বিনিয়োগ বন্ধে রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষে�R নেওয়া উচিত।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট রয়টার্সকে বলেন, “ইউরোপকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্য নীতি নিশ্চিত করতে হবে। বাণিজ্য আমাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “ইইউ নীতিগুলো যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অবৈধ পরিস্থিতিতে অবদান না রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
আগামী ২৩ জুন ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠকে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংক্রান্ত চুক্তি মেনে চলার বিষয়টিও মূল্যায়ন করা হবে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.