টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। উভয় দেশ এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এরপরই ইসরায়েলে নতুন দাবি উঠেছে—এই যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডেও কার্যকর করতে হবে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারগুলোর সংগঠন ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি গাজাতেও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, “যারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করতে পারে, তারা চাইলে গাজার যুদ্ধও বন্ধ করতে পারে।” তারা জোর দিয়ে বলেছে, গাজাকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে।
একইসঙ্গে বন্দিদের মুক্তি ও যুদ্ধ শেষ করতে জরুরি আলোচনায় বসার জন্য নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, “গত ১২ দিন ধরে ইরান নিয়ে যে আতঙ্কে ইসরায়েলিরা ঘুমাতে পারেনি, এখন আমরা আমাদের প্রিয়জনদের জন্য ঘুমাতে পারছি না।”
ইসরায়েলি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হামাসের হাতে এখনও ৫০ জন বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফোরামটি সতর্ক করে বলেছে, “ইরানের বিরুদ্ধে এত বড় সফল অভিযানের পরও যদি বন্দিদের মুক্ত করা না যায়, তবে তা হবে ভয়াবহ ব্যর্থতা। এখনই কাজ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।”
ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে এক পোস্টে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “এখন সময় গাজা ফ্রন্ট বন্ধ করার, বন্দিদের ঘরে ফেরানোর, যুদ্ধ শেষ করার। ইসরায়েলকে পুনর্নির্মাণের সময় এসেছে।”
সম্পর্কিত সংবাদ:
- গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন: নিহতের সংখ্যা ৫৬ হাজার ছুঁই ছুঁই
- ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি শুরু
- ইরানের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ৯ জন নিহত, ৩৩ জন আহত
- ‘ইরানে ব্যাপক সাফল্যের’ পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল
- ট্রাম্পের আহ্বান: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করবেন না
- ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কমছে তেলের দাম
এ.আই/এম.আর
