ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ব্যাপক হামলার পর তেলআবিব এখন তেহরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তার আরব মিত্রদের মাধ্যমে ইসরায়েলের এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সংঘাত দ্রুত শেষ করতে প্রস্তুত, তবে এখন সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ইরানের ওপর। ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ জানায়, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূলের পরিকল্পনা করছে তেলআবিব। ইসরায়েল মনে করে, তারা শিগগিরই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করবে।
আরব কর্মকর্তারা জানান, ইরান এখনই যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়, যতক্ষণ না তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পূর্ণ জবাব দিতে পারে। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা টাইমস অফ ইসরায়েল-কে বলেন, “ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে, আমরা এখনই হামলা বন্ধ করতে পারি। এটি ইরানের সিদ্ধান্ত।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানায়, সোমবার তেহরানের সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইসরায়েল সতর্কবার্তা দিয়েছে—ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে পরবর্তী হামলার মাত্রা আরও বাড়বে। নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিরোধ নীতি যুদ্ধবিরতির পথে প্রধান বাধা।
নেতানিয়াহু রবিবার বলেন, ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনায় গুরুতর ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। তিনি জানান, ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চায় না, তবে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
চ্যানেল-১২ জানায়, সংঘাত বন্ধের দুটি পথ রয়েছে—ইসরায়েল একতরফাভাবে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিতে পারে, অথবা যুক্তরাষ্ট্র উভয়পক্ষের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে পারে। তবে ইসরায়েল দ্বিতীয় পথটিকে কম গ্রহণযোগ্য মনে করে।
ইসরায়েল আশা করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলা ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে বাধ্য করবে। তবে তেলআবিব সতর্ক করেছে, ইরান নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করলে আবারও সামরিক হামলা চালানো হবে।
এ.আই/এম.আর
