ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় একটি আবাসিক ভবনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন শিশু। শনিবার (১৪ জুন ২০২৫) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে শুরু হওয়া এই হামলা ছিল ইসরায়েলের তৃতীয় দফা আক্রমণ। এর আগে প্রথম দফা হামলায় ৭৮ জন নিহত ও ৩২৯ জন আহত হন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, হতাহতের সংখ্যা সরকারি ঘোষণার চেয়ে বেশি হতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ৭৮ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা ৩৩০-এর কাছাকাছি। ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই অভিযান শুরু করে, যাকে ইরানের মাটিতে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে ২০০টি যুদ্ধবিমান ও ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।
হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সামরিক ইনস্টলেশন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য, এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।
ইরান সরকার তাদের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘর্ষ যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ.আই/এম.আর
