Friday, June 27, 2025

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর সাইপ্রাসে ইসরায়েলিদের ভিড়, ‘নতুন ফিলিস্তিন’ নিয়ে উদ্বেগ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় অনেক ইসরায়েলি নাগরিক ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে, এই অভিবাসন শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, ইসরায়েলিরা সাইপ্রাসে জমি কিনে বসতি গড়ে তুলছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই প্রবণতা সাইপ্রাসকে ধীরে ধীরে ‘নতুন ফিলিস্তিনে’ রূপ দিতে পারে।  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাইপ্রাস ইউরোপের নিপীড়িত ইহুদিদের জন্য আশ্রয়স্থল ছিল। বর্তমানে ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সাইপ্রাসের বামপন্থি রাজনৈতিক দল আকেল পার্টি এই প্রবণতাকে ‘ভূমি দখলের সূক্ষ্ম কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দলটির মহাসচিব স্তেফানো বলেন, “সাইপ্রাস একটি ছোট দেশ, এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। আমরা যদি এখন সতর্ক না হই, ভবিষ্যতে আমাদের জমি আমাদের হাতে থাকবে না।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলিরা বিশেষ করে সাইপ্রাসের সেনাঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা যেমন লারনাকা ও লিমাসোলকে টার্গেট করছে। এসব এলাকায় তারা গেটেড কমিউনিটি, সিনাগগ ও জায়নবাদী স্কুল তৈরি করছে, যেখানে স্থানীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত লারনাকায় ইসরায়েলিরা ১,৪০৬টি সম্পত্তি কিনেছেন, যার মধ্যে ৪৮১টির দলিল সম্পন্ন হয়েছে। লিমাসোলে কেনা হয়েছে ১,১৫৪টি সম্পত্তি, যার মধ্যে ৫১১টির দলিল সম্পন্ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ইইউ নাগরিকদের জমি কেনায় তেমন বাধা নেই। তবে, ইসরায়েলিরা ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ব্যাপকভাবে জমি কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আকেল পার্টি এই আইনে কড়াকড়ি আরোপের জন্য সংসদে দুটি বিল উত্থাপন করেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সাইপ্রাসে একটি ‘জায়নবাদী সেফ জোন’ তৈরি হতে পারে, যা স্থানীয়দের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের কারণ হতে পারে। স্তেফানোর মতে, স্থানীয়রা ইতোমধ্যে জানাচ্ছেন যে কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে নীরব।
এই পরিস্থিতি সাইপ্রাসের সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা ও প্রতিরোধের আহ্বান জোরালো হচ্ছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.