উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের ওনসান কালমা রিসোর্ট আগামী মাস থেকে দেশীয় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে, যা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নির্দেশে নির্মিত একটি বিলাসবহুল সমুদ্র সৈকত রিসোর্ট। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রিসোর্টে প্রতিদিন ২০ হাজার পর্যটক থাকতে পারবেন। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, এবং ওয়াটার পার্কের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই রিসোর্টটি নির্মাণে ছয় বছরের বিলম্ব হয়েছে, যা ২০১৯ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। কোভিড মহামারি এবং নির্মাণকাজের জটিলতার কারণে এটি বিলম্বিত হয়। গত ২৪ জুন কিম জং উন তার কন্যা কিম জু এ এবং স্ত্রী রি সল জুকে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ম্যাটসেগোরাসহ অন্যান্য কূটনীতিকরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
একসময় মিসাইল পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ওনসান এলাকাটি এখন পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হচ্ছে। কিম জং উনের ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এই এলাকায় দেশটির অভিজাতদের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তবে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি কবে উন্মুক্ত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রিসোর্টটি উত্তর কোরিয়ার জন্য আয়ের একটি নতুন উৎস হতে পারে। কোভিড মহামারির সময় ২০২০ সালে সীমান্ত বন্ধ করার পর ২০২৩ সালে তা শিথিল করা হয়। ২০২৪ সালে রাশিয়ান পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খোলা হলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পর্যটকদের জন্য তা সীমিত এবং অস্থিতিশীল। বর্তমানে রাশিয়ানরাই উত্তর কোরিয়ায় ভ্রমণের অনুমতি পাওয়া একমাত্র বিদেশি পর্যটক।
ইয়ং পাইওনিয়ার ট্যুরসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রোয়ান বিয়ার্ড বলেন, এই রিসোর্টটি আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আশা থাকলেও তা এখনও পূরণ হয়নি। তবে উরি ট্যুরসের পরিচালক এলিয়ট ডেভিস মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার ‘অস্বাভাবিক গন্তব্য’ হিসেবে আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি পিয়ংইয়ং ও মস্ক1কোর মধ্যে ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালু এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থনের অভিযোগ এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে।
কেসিএনএ এই রিসোর্টকে ‘পর্যটনের নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এই দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সামরিক খাতে অধিক ব্যয়ের কারণে এই প্রকল্পের টেকসই সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
