১১ জুন, ২০২৫ : লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন বৈঠককে সরকার ও বিএনপি উভয়ের জন্যই সুযোগ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বৈঠক জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসন করতে পারে বলে তারা মনে করেন। রাজনীতিবিদরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে নির্বাচনের ধোঁয়াশা কেটে যাবে এবং দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।
বুধবার রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকটি শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক ঘিরে সবার দৃষ্টি এখন লন্ডনের দিকে। বিএনপির নীতি-নির্ধারক থেকে সকল স্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসী এই বৈঠক থেকে ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গোটা জাতি লন্ডনের দিকে তাকিয়ে আছে। এটি একটি ঐতিহাসিক বৈঠক হবে এবং দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।” তিনি আরও বলেন, বিএনপি ডিসেম্বরে নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনসহ সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে রাজনীতি ও নির্বাচনের দিনক্ষণের ধোঁয়াশা কেটে যাবে।” তিনি মনে করেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট মতবিরোধ এবং সংস্কার নিয়ে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান এই বৈঠক থেকে আসবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে এই বৈঠক দেশের জন্য সুবাতাস নিয়ে আসবে।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, “অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। সংস্কার শেষে ডিসেম্বরই উপযুক্ত সময়। কিন্তু সরকার এপ্রিলের কথা বলছে, যা রমজান ও আবহাওয়ার কারণে উপযুক্ত নয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের সংকট কেটে যেতে পারে এবং গণতন্ত্রে উত্তরণ সহজ হবে।”
ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেন, “এই বৈঠক গণতন্ত্রের পথ উন্মোচন করবে। রাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে এবং নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন কেটে যাবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পরিকল্পনা, সংস্কার, নির্বাচনের তারিখ, সুষ্ঠু নির্বাচন, স্থিতিশীলতা ও বিএনপির সঙ্গে ঐক্য—সবই এখন প্রয়োজন।” তিনি মনে করেন, বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা সরকারের জন্য অপরিহার্য, কারণ বিএনপি দেশের বৃহত্তম দল এবং নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। তিনি আরও বলেন, সরকারের অবাধ নির্বাচন, সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের উদ্যোগে বিএনপির সহযোগিতা প্রয়োজন।
অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, এই বৈঠক বিএনপির জন্যও সুযোগ। তারা নির্বাচনের তারিখ, সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া সম্ভব। তিনি মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে সংকট নেই; এটি শুধুই তারিখের বিষয়। সরকার চাইলে ফেব্রুয়ারি বা জানুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব। তবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা থাকলে নির্বাচন ২০২৬ সালে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই বৈঠক জাতীয় ঐক্যের সূচনা। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ইতিবাচক বার্তা দেবে যে সরকার ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করছে।
এ.আই/এম.আর
