আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১১ জুন, ২০২৫ : যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে মঙ্গলবার (১০ জুন) ইসরায়েলের দুই চরমপন্থী মন্ত্রী—জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ সীজ করার সিদ্ধান্ত।
ইউএস সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নিন্দার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বেন গাভির ও স্মোত্রিচ, উভয়ই চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থানের জন্য তারা সমালোচিত হয়ে আসছেন।
পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি আমাদের সমর্থন থেকে সরে আসে না। তবে, যারা সহিংসতা উসকে দিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ।” বিবৃতিতে ৭ অক্টোবর হামাসের সন্ত্রাসী হামলারও নিন্দা করা হয়েছে।
বেন গাভির নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটি আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। হামাসকে মানবিক সহায়তা বন্ধে আমি কাজ চালিয়ে যাব।” স্মোত্রিচ পশ্চিম তীরে একটি নতুন ইহুদি বসতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “ব্রিটেন আমাদের মাতৃভূমিতে বসতি স্থাপনে বাধা দিতে চায়, কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন স্যার এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সরকার আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে জবাব নির্ধারণ করবে।
এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল-মার্কিন জোটের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করলেও, ইউরোপীয় ও কমনওয়েলথ দেশগুলো নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে।
