Wednesday, June 25, 2025

ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষতিপূরণ দাবি করছে হাজার হাজার ইসরায়েলি

জেরুজালেম, ২৫ জুন ২০২৫ – ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের তীব্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক এখন তাদের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

বুধবার (২৫ জুন) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৩৯ হাজার ক্ষতিপূরণ দাবি জমা পড়েছে। ইসরায়েলের জনপ্রিয় পত্রিকা ইয়েদিয়থ আহারোনোথ জানিয়েছে, গত ১৩ জুন থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ট্যাক্স অথরিটির অধীনে থাকা ক্ষতিপূরণ তহবিলে এখন পর্যন্ত ৩৮,৭০০টি দাবি নিবন্ধিত হয়েছে।
এই দাবিগুলোর মধ্যে ভবনের ক্ষতির জন্য ৩০,৮০৯টি, যানবাহনের ক্ষতির জন্য ৩,৭১৩টি, এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষতির জন্য ৪,০৮৫টি ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, আরও হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলোর জন্য এখনো কোনো দাবি জমা পড়েনি।
ইসরায়েলের আল্ট্রা-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ভিত্তিক ওয়েবসাইট বেহাদরেই হারেদিম জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে সর্বাধিক ২৪,৯৩২টি দাবি জমা পড়েছে, এবং দক্ষিণাঞ্চলের আশকেলন শহর থেকে জমা পড়েছে ১০,৭৯৩টি দাবি।
এই বিপুল সংখ্যক দাবির জন্য মোট কত টাকার ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন হবে, তা এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন থেকে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে, দাবি করে যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ইরান এই দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং রোববার ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। সোমবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে এই ১২ দিনের আকাশযুদ্ধের অবসান ঘটে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, হামলার পরিণতি ইসরায়েলের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নাগরিকরা তাদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন, আর সরকারের সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কঠিন কাজ।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.