Wednesday, June 25, 2025

হ্যাগে ন্যাটো সম্মেলন: ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল, ইউরোপজুড়ে সমালোচনার ঝড়

দ্য হ্যাগ, ২৫ জুন ২০২৫ – নেদারল্যান্ডসের হ্যাগে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাত্র ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের এই বৈঠকের জন্য ব্যয় হয়েছে ২,১৪৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১৪ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বুধবার দ্য টাইমস এবং নেদারল্যান্ডস টাইমস’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সম্মেলনের নিরাপত্তার জন্য হ্যাগ শহরকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে নিয়োজিত ছিল প্রায় ২৭,০০০ পুলিশ সদস্য এবং ১০,০০০ সামরিক কর্মী। নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অতিথি আপ্যায়ন মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে এই বিপুল অঙ্ক। সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার হুমকি এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা।
তবে এত বিপুল ব্যয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টার আলোচনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুরো আয়োজনের সময় ছিল মাত্র ১৫০ মিনিট। ডাচ সংসদের কিছু সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, এই অর্থ কি স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা যেত না?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে লিখেছেন, “আড়াই ঘণ্টায় এত টাকা খরচ, অথচ আলোচনার ফলাফল কী তা আমরা জানি না।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন ছিল সময়ের দাবি। ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরা জরুরি ছিল। তারা জানায়, এই ব্যয় প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ, অপচয় নয়। ন্যাটোর মুখপাত্র বলেন, “ইরান ও রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে সব রাষ্ট্রকে এখন নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই সম্মেলন সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
তবে এই ব্যয়বহুল আয়োজন নিয়ে ইউরোপজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে।

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.