আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৪ জুন ২০২৫ : তেহরান: ইরানের ইসলামী বিপ্লব গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শুক্রবার রাতে ইসরায়েলের অধিকৃত এলাকায় একাধিক ধাপে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের নাগরিক, সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যা করেছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তেহরান টাইমস জানিয়েছে, ইসরায়েলে পাল্টা হামলায় ইরান উচ্চমাত্রায় সফলতা অর্জন করেছে। আইআরজিসি জানায়, তারা ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি, গুপ্তচর কেন্দ্র ও অস্ত্র কারখানায় সঠিকভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু কৌশলগত স্থান ধ্বংস হয়েছে, যদিও ইসরায়েল দাবি করেছে তারা হামলা প্রতিরোধ করেছে।
ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্যামেরায় তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য ধরা পড়েছে। হাইফা বন্দরও আক্রান্ত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশের প্রতিরোধ বাহিনীর মাধ্যমে নতুন হামলার ধারা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ন্যাটো ইসরায়েলের পাশে থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই ঘোষণা দেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলকে ‘অসহায়’ করে তুলবে। তিনি বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বাহিনী শয়তান শত্রুকে বড় ধাক্কা দেবে।’ আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর বলেন, এই পাল্টা হামলা ইসরায়েলের জন্য ‘নারকীয় দরজা’ খুলে দেবে এবং এটি ‘কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক’ হবে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বকর কালিবাফ বলেন, যোদ্ধারা সংঘাত শুরু করেছে, তাই ইরানই এর সমাপ্তি ঠিক করবে।
আইআরজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল যদি ভবিষ্যতে সিভিলিয়ান স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে ইরানের পরবর্তী পাল্টা হামলার লক্ষ্য হবে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামো।
একই দিনে ইসরায়েল ইরানের এসফাহান প্রদেশের নাটান্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেনি। উপরের কিছু অংশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দুটি ইসরায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং একজন পাইলট বন্দী হয়েছে।
এ.আই/এম.আর
