Saturday, June 21, 2025

ইরানে হামলার জল্পনা: প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে মার্কিন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান

২১ জুন ২০২৫, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ইরানের ভূগর্ভস্থ ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলার জল্পনা তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মিসৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে ২ থেকে ৪টি বি-২ বিমান এবং ৬টি রিফুয়েলিং বিমান গুয়ামের নৌ ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, এই বিমানগুলো ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের দিকে যাবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দিয়েগো গার্সিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি, ইরান থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানের জন্য আদর্শ স্থান। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র এখানে ছয়টি বি-২ বিমান মোতায়েন করেছিল, যা ইয়েমেনে বিমান হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
বি-২ স্টিলথ বিমান বিশ্বের একমাত্র যুদ্ধবিমান, যা ভারী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা বহন করে ইরানের ফোরদোর মতো গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে সক্ষম। ফোরদো কোম নগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে একটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দিয়েগো গার্সিয়া থেকে হামলার জন্য ব্রিটেনের অনুমতি প্রয়োজন, তবে গুয়াম থেকে হামলার ক্ষেত্রে তা লাগবে না। গুয়াম ঘাঁটি ফোরদো থেকে প্রায় ১২,৮০০ কিলোমিটার দূরে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানে হামলার বিষয়ে তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে থাকলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তে দেরি হলে তারা একাই ফোরদোতে গোপন অভিযান চালাতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের বাহিনী ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনায়, এমনকি ফোরদোতেও হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। তবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া যাবে কিনা, তা নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা এবং অতীতে সময়সীমা স্থগিতের ইতিহাস ইরান ইস্যুতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.