Sunday, June 22, 2025

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদনের সময়সীমা আজ শেষ

ঢাকা, ২২ জুন, ২০২৫: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আজকের মধ্যে আগ্রহী দলগুলোকে তাদের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে, কারণ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন জমার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই জমা পড়া আবেদনপত্রগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কয়েকটি দলের আবেদনের পর ইসি সময়সীমা দেড় মাস বাড়ায়। সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী, এনসিপিসহ আরও কিছু দল আজ রোববার (২২ জুন) তাদের আবেদনপত্র জমা দেবে বলে জানা গেছে।
দল নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, নিবন্ধনের জন্য একটি দলকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটি, দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় কার্যকর জেলা কমিটি এবং কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা বা সমপর্যায়ের কমিটি থাকা। এছাড়া, কোনো দলের প্রার্থী যদি পূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বা কোনো নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ পান, তাহলেও সেটি নিবন্ধনের যোগ্যতার আওতায় পড়ে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ (নুরুল হক নুর), নাগরিক ঐক্য (মাহমুদুর রহমান) এবং গণসংহতি আন্দোলনসহ বেশ কিছু দল নিবন্ধন পেয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব দলের অধিকাংশই আবেদনের পাঁচ থেকে ছয় বছর পর আদালতের আদেশে নিবন্ধন লাভ করেছে।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫টি দল ইসির নিবন্ধন পেয়েছে। তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থতা ও আদালতের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি এবং জাগপা—এই পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সম্প্রতি আদালতের আদেশে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপার নিবন্ধন ফেরত এলেও, এ বিষয়ে ইসি থেকে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.