গালফ কো-অপারেটিভ কাউন্সিল (জিসিসি) অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর ওপর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকদের মেডিকেল চেকআপে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩০টি মেডিকেল সেন্টার, যেগুলোর মালিকানা ঘুরেফিরে কয়েকজন ব্যক্তির হাতে, দেশের ২০০টির বেশি জিসিসি-অনুমোদিত সেন্টারের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মেডিকেল চেকআপ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাড়ে ৮ হাজার টাকার পরিবর্তে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়, সার্ভার ম্যানিপুলেশন, জাল ফিটনেস রিপোর্ট প্রদান এবং অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জিসিসি-অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের মালিকরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
জিসিসি মেডিকেল চেকআপে সিন্ডিকেটের রমরমা: অতিরিক্ত ফি, জাল রিপোর্ট ও অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ
জিসিসির নিয়ম অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দূতাবাস ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে জমা দিতে হয়। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কয়েকটি মেডিকেল সেন্টার ওয়াফিদ বা চয়েস স্লিপ পদ্ধতি ম্যানিপুলেট করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট ঢাকার বাইরে রাজশাহী, কক্সবাজার, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার মেডিকেল সেন্টারের নামে স্লিপ তুলে ঢাকায় চেকআপ করাচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই ফিটনেস সনদ দিচ্ছে।
নির্দিষ্ট কিছু সেন্টার, যেমন কক্সবাজারের আল-ম্যান, বে-মেডিকেল, ম্যাক্স মেডিকেল; বরিশালের আলিফ চেকআপ, ইয়াকিন মেডিকেল; রাজশাহীর আল-আলী, হোপ মেডিকেল; এবং ঢাকার এসকেএন, স্মার্ট, ধামহাসি, আইকন মেডিকেলসহ বেশ কয়েকটি সেন্টারের বিরুদ্ধে জাল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ বশীর, জসিম উদ্দিন সৈয়দ, মো. খুরশীদ আলম, জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, নোমান চৌধুরী, এনাম চৌধুরী, মো. রুবেল ও কপিল মজুমদারের নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ১২ থেকে ৩০টি মেডিকেল সেন্টারের মালিক, যা জিসিসির নিয়মের পরিপন্থী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই চক্রটি প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে, যেখানে অনেক শ্রমিক আনফিট হলেও টাকার বিনিময়ে ফিট সনদ পাচ্ছেন। এর ফলে বিদেশে গিয়ে অনেক শ্রমিক পুনঃপরীক্ষায় আনফিট প্রমাণিত হচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। কক্সবাজারের শ্রমিক রতন মিয়া বলেন, “২৫ হাজার টাকা দিয়ে ফিট রিপোর্ট নিয়েছিলাম, কিন্তু সৌদিতে আনফিট হওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এখন ঋণের চাপে আত্মহত্যার পথ ছাড়া উপায় নেই।”
অভিযোগ রয়েছে, সৌদি দূতাবাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। নতুন সেন্টার তালিকাভুক্ত করতে কোটি টাকার শেয়ার দাবি করা হয়। এছাড়া, রাজশাহী, কক্সবাজার ও বরিশালের অনেক সেন্টারে নারী চিকিৎসকের অভাবে পুরুষ চিকিৎসক দিয়ে নারী শ্রমিকদের পরীক্ষা করানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে তদন্ত কমিটি গঠন ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ.আই/এম.আর
.jpeg)