Friday, June 20, 2025

টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেবেন

টেলিগ্রাম ম্যাসেজিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ঘোষণা করেছেন, তার আনুমানিক ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার (১০.৩ বিলিয়ন পাউন্ড) সম্পত্তি তার ৬ জৈবিক সন্তান এবং শুক্রাণু দানের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শতাধিক শিশুদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ শুক্রবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।

ফরাসি ম্যাগাজিন ল্য পয়েন্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুরভ বলেন, “তারা সবাই আমার সন্তান, এবং তাদের সবার সমান অধিকার থাকবে। আমি চাই না আমার মৃত্যুর পর তারা একে অপরের সঙ্গে লড়াই করুক।” তিনি জানান, তিনটি ভিন্ন সঙ্গীর সঙ্গে তার ছয়টি সন্তানের আইনি পিতা তিনি। এছাড়া, ১৫ বছর আগে একটি ক্লিনিকে শুক্রাণু দানের মাধ্যমে ১২টি দেশে ১০০টিরও বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
৪০ বছর বয়সী এই রুশ উদ্যোক্তা, যিনি বর্তমানে দুবাইতে বসবাস করেন, বলেন, তার সন্তানরা ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের উত্তরাধিকার পাবে না। তিনি চান, তারা সাধারণ জীবনযাপন করুক, নিজেদের গড়ে তুলুক এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের ওপর নির্ভরশীল না হোক। ইতিমধ্যে তিনি একটি উইল তৈরি করে রেখেছেন।
টেলিগ্রাম, যার মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ১০০ কোটিরও বেশি, প্রাইভেসি ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তবে, ফ্রান্সে দুরভের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে গত বছর তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক পাচার, শিশু যৌন নির্যাতন ও জালিয়াতির বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “শুধু অপরাধীরা আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করে বলে আমরা অপরাধী নই।”
দুরভের ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টেলিগ্রাম রাশিয়ায় জনপ্রিয় হলেও, সমালোচকদের মতে, এটি ভুল তথ্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও অবৈধ কন্টেন্ট ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাজ্যে গত গ্রীষ্মে সহিংসতা সংগঠনে ডানপন্থী চ্যানেল হোস্ট করার জন্যও অ্যাপটি সমালোচিত হয়েছিল। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তুলনায় টেলিগ্রামের কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.