ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তবে, ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যসহ অন্যান্য পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রণালিটি বন্ধ না হলেও জাহাজ মালিকদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবহনে ধীরগতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি, যা পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করে, বিশ্বের তেল বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহন হয়, যা বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৩৪ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে গেছে। ১৯৮৪ সালে ইরান-ইরাক ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’-এর সময় এটি সর্বশেষ বন্ধ হয়েছিল।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইরান ইসরায়েলের তেল আবিব ও আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এটি ছিল ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি’ অপারেশনের অংশ। ইরানের দাবি, ইসরায়েলের হামলায় তাদের ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেন বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। অনেক জাহাজ মালিক লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর এড়িয়ে চলছেন।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, ইরানি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত পারমাণবিক আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে।
এ.আই/এম.আর
