Saturday, June 21, 2025

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জড়িত হওয়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের আশপাশে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ শুক্রবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে।

একজন মার্কিন নৌবাহিনী কর্মকর্তার বরাতে রয়া নিউজ জানায়, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড আগামী ২৪ জুন ভার্জিনিয়ার নরফোক থেকে ইউরোপীয় জলসীমার উদ্দেশে রওনা হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন তৃতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী হবে। ২০১৭ সালে কমিশনপ্রাপ্ত এই পরমাণুচালিত জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি আরও দুই সপ্তাহ সময় নেবেন। শুক্রবার নিউ জার্সিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইসরায়েল ইরানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েল যখন জয়ের পথে থাকে, তখন তাদের থামানো কঠিন। তবে আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না তেহরান। শুক্রবার জেনেভায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ এবং হামলার দায়ে বিচার নিশ্চিত হলে ইরান কূটনৈতিক সমাধান বিবেচনা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং এর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

বর্তমানে ইউএসএস কার্ল ভিনসন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সামরিক পরিবহন বিমান ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে, যা সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় নেওয়া ব্যবস্থা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে। তবে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং মার্কিন রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে

এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.