Monday, June 30, 2025

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অভিনেত্রী মাহির কাজিন

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহির কাজিন আবু সাহেদ রাসেল। শনিবার (২৮ জুন) রাতে ফেনী থেকে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি।

জানা গেছে, সম্পর্কে কাজিন হলেও রাসেল মাহির কাছে ছিলেন ছোট ভাইয়ের মতো। তিনি মাহির পরিবারের সঙ্গে তাদের বাসাতেই থাকতেন। দুর্ঘটনার দুই দিন আগে এক বন্ধুর বিয়েতে অংশ নিতে ফেনী গিয়েছিলেন রাসেল। ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন সামিরা খান মাহি। সোমবার দুপুরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলল। আর আমরা কিছুই করতে পারলাম না।” আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “গভীর শোকের সাথে জানাচ্ছি, আমার কাজিন ছোট ভাই রাসেল, যে আমাদের বাসায় থাকত, একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।” দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে মাহি জানান, “একটি নোহা গাড়ি ২-৩ বার ধাক্কা দিয়ে ওকে ফেলে দেয়, গাড়িটি পানিতে পড়ে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর দুইজন মানুষ গাড়ির গ্লাস ভেঙে তাকে পানির নীচ থেকে তুলে, কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা আরও ভয়ংকর।” হাসপাতালের ঘটনা তুলে ধরে মাহি বলেন, “হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি। তারা ভাবছিল, কোথাকার কে এসেছে, বিল দেবে কি না, পরিবার কারা—এসব হিসেব। একজন মানুষের জীবন তাদের কাছে মূল্যবান ছিল না। এরপর তাকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানকার ব্যবস্থাপনাও অগোছালো ছিল। যথাযথ চিকিৎসা হয়নি।” প্রশ্ন রেখে মাহি বলেন, “আমার প্রশ্ন, প্রথমে কি আসা উচিত—একজন মানুষের জীবন, নাকি টাকা-পয়সার হিসাব? একটা মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকে, আর একটি গাড়িও দাঁড়ায় না—এ কেমন মানবতা? মানুষ কি এতটা নির্দয় হয়ে গেছে?” আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সমাজ, এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা, এই মনুষ্যত্ব—সবকিছু আজ প্রশ্নের মুখে। আমার ভাই আর নেই, কিন্তু আমি চাই না অন্য কারো পরিবারের সাথে এমন হোক। আজ আমার ভাই, কাল আপনার। মানবতা ফিরে আসুক, মানুষের প্রাণই হোক অগ্রাধিকার।”
এদিকে, মাহি এই ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে চান না। তিনি বলেন, “কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে জানি না। পেছনে থেকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। কোন গাড়ি, কী গাড়ি কিছুই জানা নেই। তাছাড়া রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে দাফন হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে লাশের পোস্টমর্টেম প্রয়োজন। আমরা চাইনি কোনো কাটাছেড়া করা হোক।”

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.