Monday, June 30, 2025

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকে সমকামিতা ও শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগে চাকরিচ্যুত

সমকামিতা ও শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গত ৩১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধির ৪(১)(F) ধারা মোতাবেক হাফিজুল ইসলামকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনার পর সিন্ডিকেটের ২৬৬তম সভায় প্রাথমিকভাবে তার বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ এবং এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে, শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত দাবি ও পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের ২৬৭তম ও ২৬৮তম সভায় তার কর্মকাণ্ডকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর মনে করে তাকে ৩১ মে থেকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হয়।

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দীন বলেন, “প্রশাসন আগে প্রহসনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে অটল ছিলাম। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার্থীরা নানা নির্যাতন থেকে মুক্তি পেল। আমরা অত্যন্ত খুশি।” তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ক্যাম্পাসে এমন আরও অনেক হাফিজ আছে। তাদের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।” হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমকামিতা, যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আপত্তিকর মন্তব্য, দাড়ি থাকলে শিবির ট্যাগ দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে ফলাফল খারাপ করা, এবং ছাত্রলীগের মিছিলে বাধ্য করাসহ ২৭টি অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে এবং তার কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেন। শিক্ষার্থীরা তার স্থায়ী চাকরিচ্যুতির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.