Sunday, June 22, 2025

গোটা বিশ্বে মার্কিন হামলা, নীরব বিশ্ববাসী: ইরানি অভিনেত্রী মান্দানা করিমি


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রোববার (২২ জুন) ভোররাতে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা—ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান—লক্ষ্য করে মার্কিন বি-২ যুদ্ধবিমান ভয়াবহ হামলা চালায়। এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বিধ্বংসী বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা, যা মাটির নিচে নির্মিত এই স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ঘটনায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এবার আমাদের পালা। আমেরিকার নৌবহরে পালটা হামলা চালাবে ইরান।” এছাড়া, তেহরান বিশ্বের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
এই অস্থির পরিস্থিতিতে ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী মান্দানা করিমি তার মাতৃভূমি ও পরিবার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ইউরোপে অবস্থানরত এই অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, “আমি মেসেজের উত্তর দিচ্ছি, নিজেকে ঠিক দেখানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু আমি ঠিক নেই। যা করছি নিজের এবং পরিবারের জন্য। কিন্তু প্রতি মুহূর্ত উদ্বেগে কাটছে। কীভাবে ঠিক থাকব, যখন দেখছি শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। শুধু ফিলিস্তিন কিংবা ইরান নয়, গোটা বিশ্বে মার্কিন হামলা চলছে, অথচ সবাই নীরব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শান্ত ইউরোপের রাস্তায় হাঁটছি, কিন্তু মনে হয় আমি যেন ভূত। আমার একটা অংশ যেন এখনও ইরানে—যেখানে আমার মা, ভাই, ভাইপো, ভাইজিরা আছেন। মনে হয় পরের ক্ষেপণাস্ত্রটা হয়তো আমাদের বাড়িতেই পড়বে।”
মান্দানা জানান, “আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। কিন্তু নিজের দেশকে চোখের সামনে পুড়তে দেখা, আক্রমণকারীদের প্রশংসা সহ্য করা অসহনীয়। ইরান শুধু একটি দেশ নয়। ইরান আমার মায়ের হাত, ধুলোর মাঝে জুঁইফুলের গন্ধ, ঘুমপাড়ানি গান। সেই ইরানের মৃত্যু হচ্ছে।”
বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই ভালো নেই। তাই চুপ করে বসে থাকবেন না। দয়া করে প্রতিবাদ করুন। আপনারা চুপ করে থাকলে মনে হবে সত্যি কিছু ভুল হচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হবে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে।
এ.আই/এম.আর

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.