ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন রাতভর হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের এই অভিযানকে সফল দাবি করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো "সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে ধ্বংস" হয়েছে। তবে, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন এই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা মার্কিন হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সম্ভবত হামলার আগেই এই স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম ও কিছু যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়েছিল। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও বলেছেন, ফোরদোর স্থাপনা ধ্বংস না হলেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, ১২টি বাঙ্কার-বাস্টার বোমাও এই স্থাপনাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারত না।
হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়, যার মধ্যে ফোরদো অন্যতম। এই স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সাফল্যের দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন, তবে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, তিনটি স্থাপনাই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তারা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন। স্যাটেলাইট ছবিতে ফোরদোতে বোমার আঘাতে সৃষ্ট গর্ত ও ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। ইসরায়েলি বিশ্লষকেরা ধারণা করছেন, ইরান হামলার আগে স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নিয়েছে। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের ছবিতে ফোরদোর প্রবেশপথে ১৬টি পণ্যবাহী ট্রাক দেখা গেছে, যা ইরানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মিক মালরয় বলেন, এই হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ২ থেকে ৫ বছর পিছিয়ে দিতে পারে। তবে, চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের জন্য আরও সময় লাগবে।
এ.আই/এম.আর
.jpg)