কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারী ও তার দুই সন্তানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহ আলম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে শাহ আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই তিন খুনের মামলায় এজাহারনামীয় আসামি।
তবে শাহ আলমের ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আজিজ সরকার দাবি করেছেন, তার বাবা এই মামলার প্রকৃত আসামি নন। তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশ বলছে, আমার বাবাকে ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু এজাহারে ২৫ নম্বরে থাকা শাহ আলম নামের আসামির বয়স ৪০ বছর, আর আমার বাবার বয়স ৭০ বছরের বেশি। এ ছাড়া আমার দাদার নাম এলাকায় অজানা নয়। তাহলে আসামির পিতার নাম অজ্ঞাত কেন? এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য আমার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিনও এটিকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাহ আলম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে আগে শুনিনি। ঘটনার আগে, সময় বা পরে কোনো সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা যায়নি। আমার মনে হয়, কোথাও ভুল হচ্ছে। তাকে অযথা গ্রেপ্তার করে বৃদ্ধ বয়সে হয়রানি করা হচ্ছে।’
মামলার বাদী রিক্তা আক্তার জানান, তিনি নিশ্চিত নন শাহ আলম ঘটনাস্থলে ছিলেন কি না। মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পীর কাশিমপুরের শাহ আলম নামের একজন জড়িত বলে জানার পর মামলায় তার নাম উল্লেখ করেছি। পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় আসামির পিতার নাম অজ্ঞাত রেখেছি। ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। আমি কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে চাই না। তদন্তে যদি তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে গ্রেপ্তার হোক; নইলে কোনো নিরীহ মানুষের হয়রানি চাই না।’
ঘটনার প্রায় এক মাস পার হলেও প্রধান আসামি শিমুল বিল্লাহ এখনো পলাতক। এ নিয়ে ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে রিক্তা বলেন, ‘শিমুল গ্রেপ্তার না হলে যেকোনো সময় আমার ওপর হামলা হতে পারে, এমনকি আমাকে হত্যাও করতে পারে। আমি তার দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
জেলা ডিবির উপপরিদর্শক নয়ন কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শাহ আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলায় ১০ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। নয়জন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। শাহ আলমকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
গত ৩ জুলাই সকালে কড়ইবাড়ি গ্রামে মা রোকসানা বেগম (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তারকে (২৯) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রাতে রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাঙ্গরা বাজার থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০-২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় আকুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহকে, যিনি এখনো পলাতক।
Tuesday, July 29, 2025
Author: DhakaGate Desk
Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.
এ সম্পর্কিত আরও খবর
- ফেইসবুক মন্তব্য