নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একটি বড় হাতিয়ার ছিল গণরুম-গেস্টরুম প্রথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৮টি হলে এই প্রথার মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন পিষ্ট হতো। মফস্বল থেকে পড়তে আসা সহজ-সরল ছেলেমেয়েরা এর শিকার হতো। আওয়ামী লীগের পতনের পর এই প্রথার অবসান হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এখন এর পুনরাগমনের আশঙ্কায় রয়েছেন। তারা বলছেন, সময়মতো হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ ও শ্রেণি কার্যক্রম শুরু না হলে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির পুনরাগমনের আশঙ্কা
জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার থেকে ঢাবিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে, ক্লাসের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলেও হলের সিট বরাদ্দ এখনো শুরু হয়নি। অধিকাংশ হলে সিট বরাদ্দের কার্যক্রম শুরুই হয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আবাসন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শেখ মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে রেজিস্ট্রেশন ও রোল নম্বর পাঠানো হয়। এরপর সিট বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভাইভার মাধ্যমে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি বলেন, তার হলে ৪৪৭ শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এখনো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করেননি।
ক্লাস শুরু হলেও সিট বরাদ্দ না হওয়ায় নবীন শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দের আগে হলে জায়গা দেওয়া হলে গণরুম-গেস্টরুম ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, অতীতে ইচ্ছাকৃতভাবে সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হতো, যাতে শিক্ষার্থীদের মিছিল-মিটিংয়ে ব্যবহার করে ছাত্রলীগের অনুগত করা যায়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সিট বরাদ্দ না হওয়ার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো গণরুম-গেস্টরুম ফিরিয়ে আনতে পারে।
নবীন শিক্ষার্থীরা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন: ক্লাস শুরুর আগে আবাসন নিশ্চিত করা, বিলম্ব হলে ভাতা বা বৃত্তির ব্যবস্থা, পোষ্য কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক ভর্তি, এবং ম্যানুয়াল মাইগ্রেশন চালু। ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখা আবাসন সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টও গণরুম-গেস্টরুম প্রথার পুনরাগমন রোধে বিবৃতি দিয়েছে। তারা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সিট বরাদ্দ এবং অ-বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতার দাবি জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে ফোন করতে বলেন, কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
