আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও মব সন্ত্রাস অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তবে, এ ধরনের মিথ্যা মামলা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫, বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গত এক বছরে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পাদিত কাজগুলো তিনি এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “মিথ্যা মামলা নিয়ে আমার বিরক্তি ও আপত্তি বহুবার প্রকাশ করেছি। বারবার বলেছি, আমাদের সরকারের আমলে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দুটি ঘটনা হলো—একটি হচ্ছে মিথ্যা মামলা, মামলা হতে পারে, কিন্তু মিথ্যাভাবে লোককে ফাঁসানো, অর্থাৎ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা; আরেকটি হচ্ছে মব জাস্টিস বা মব সন্ত্রাস। এই দুটি বিষয় আমাদের খুবই পীড়িত করে।”
মিথ্যা মামলা রোধে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে জমা দেওয়া হবে। আদালত যদি দেখেন, ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কিন্তু মাত্র ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য আছে, তাহলে বাকিদের তখনই মুক্তি দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, এবং শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অন্য কারও ব্যর্থতার জন্য আমাদের দোষারোপ করবেন না। আমরা টিম হিসেবে কাজ করি, কিন্তু এক মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।”
নির্বাচন কবে হবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আরেকটু অপেক্ষা করুন, কিছুদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।”
**হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার**
হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, পর্যালোচনার পর ১৫,০০০-এর বেশি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সাইবার আইনের অধীনে ৪০৮টি ‘স্পিচ অফেন্স’–সংক্রান্ত মামলা এবং জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে করা ৭৫২টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও স্বাধীন মতের মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা গত এক বছরের মন্ত্রণালয়ের কাজের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ সংশোধন করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন, ফৌজদারি বিধি সংশোধন, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা সংশোধন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫ এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের আইন ও বিচার বিভাগে পদায়নের বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তিনি তুলে ধরেন।
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.