গাজা, ১৩ জুলাই ২০২৫– গাজায় খাবার পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস হামলার শিকার হচ্ছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে একটি পানি বিতরণ কেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ১০ জনকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু। এই হামলায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটের মধ্যেও ইসরায়েল এই নির্মমতা অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়রা আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, নুসেইরাত শিবিরে সরবরাহ করা পানি পানের উপযোগী নয়। গত কয়েক মাসে পানি সংগ্রহে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর এটি দশম হামলা। গাজার চিকিৎসা সূত্র জানায়, রোববার উপত্যকায় মোট ৫৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পানি সংগ্রহকালে নিহত ১০ জন রয়েছেন। শনিবার আরও ১১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে রাফায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রে খাবারের জন্য গিয়ে ৩৪ জন হত্যার শিকার হন।
**অনাহারে ৬৭ শিশুর মৃত্যু**
ইসরায়েলের ১১ সপ্তাহের অবরোধের পর গত ২৬ মে থেকে বিতর্কিত সংস্থা জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু করে। তবে, এরপর থেকে জিএইচএফের ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ পদ্ধতি ও খাবারের মান নিয়ে সমালোচনা করেছে। আল-জাজিরার সংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, “জিএইচএফ থেকে দেওয়া একটি পার্সেলে পুরো পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নেই।” গাজার জনসংযোগ কার্যালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অনাহারে কমপক্ষে ৬৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ জানায়, গত মার্চ থেকে গাজায় অপুষ্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, যখন থেকে ইসরায়েল অবরোধ জোরদার করেছে। এর ফলে ইউএনআরডব্লিউ গাজায় কোনো ত্রাণ সরবরাহ করতে পারেনি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর থেকে গাজায় নৃশংস আগ্রাসন চলছে, যাতে এখন পর্যন্ত ৫৮,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৩৮,০০০ আহত হয়েছেন।
**ইসরায়েলের হামাসকে দোষারোপ**
চলমান নৃশংসতার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ৬ জুলাই থেকে কাতারের দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা থাকলেও, এএফপি’র সূত্র জানায়, ইসরায়েলের কারণে আলোচনা ব্যাহত হয়েছে। হামাস গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি করলেও, ইসরায়েল মানচিত্র উপস্থাপন করে নতুন করে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা হামাস প্রত্যাখ্যান করেছে।
মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলোচনা স্থগিত রাখতে বলেছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় সফর করেন। ইসরায়েল অবশ্য হামাসকে দায়ী করে বলেছে, তারা আলোচনায় ছাড় দিতে রাজি নয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এএফপি’কে বলেন, “ইসরায়েল নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত, কিন্তু হামাসের একগুঁয়ে আচরণ চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”
Note For Readers:
The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules.
Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters.
The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.