Saturday, July 19, 2025

গোপালগঞ্জে নতুন মামলা: চার মামলায় আসামি ৩০০৮, গ্রেপ্তার ৩০৬

গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে একদল ব্যক্তি এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলা চালায়, যার ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। সদর উপজেলার সাতপাড়ে পুলিশের গাড়ি পোড়ানো ও সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

শুক্রবার রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আল মামুন বাদী হয়ে ৫৪ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়ানোর অভিযোগে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত দুই দিনে সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া থানায় এসব মামলা করা হয়। চারটি মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৬৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গত বুধবার থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩০৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। জেলার পাঁচটি থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর থানায় নতুন ৪৪ জনসহ ৯২ জন, কাশিয়ানী থানায় নতুন ৩৩ জনসহ ৭৭ জন, মুকসুদপুরে নতুন ২২ জনসহ ৮৮ জন, টুঙ্গিপাড়ায় নতুন ১০ জনসহ ২৭ জন এবং কোটালীপাড়ায় নতুন ১০ জনসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বুধবার এনসিপির কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ কামরুজ্জামান প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। রাতেই কারফিউ জারি করা হয়। পরে কারফিউর মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হলেও আজ সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.