Saturday, July 19, 2025

কক্সবাজারে নতুন গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেব না, বললেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন করে কোনো গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেওয়া হবে না। শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজিত এনসিপির পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা একজন গডফাদার ছিলেন, এবং তার অধীনে বাংলাদেশজুড়ে ছোট ছোট গডফাদার ছিল। আমরা সেই গডফাদারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছি। আমরা নতুন করে কোনো গডফাদারের আবির্ভাব হতে দেব না। মাফিয়াতন্ত্র, গডফাদারতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র সবকিছুকে বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। জনগণের বাংলাদেশ, জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” কক্সবাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বাংলাদেশ জনগণের। বঙ্গোপসাগর থেকে যে সভ্যতা তৈরি হয়েছিল, আমরা তার উত্তরাধিকারী। সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই করে কক্সবাজারের মানুষের জীবনযাপন, এবং সংগ্রাম ও সাহসিকতার আরেক নাম কক্সবাজার।” পর্যটন শিল্প নিয়ে তিনি বলেন, “কক্সবাজার পর্যটনের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু আমরা এই শিল্পের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। কক্সবাজারের মানুষকে সাথে নিয়ে এই শিল্প গড়ে তুলতে পারিনি। পর্যটনের নামে এখানে লুটপাট হয়েছে। আমরা চাই পরিবেশবান্ধব কক্সবাজার গড়ে উঠুক, যেখানে কক্সবাজারের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।” রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের দরদ রয়েছে। তাদের অধিকারহীন, রাষ্ট্রহীন করে রাখা হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর বাংলাদেশ তাদের দায়িত্ব নেবে, এটা সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নিতে গিয়ে কক্সবাজারের মানুষের প্রতি বেইনসাফি করা যাবে না। তাদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে না, এটা বিবেচনায় রেখে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “ড. ইউনূস ও বিশ্ব বিবেকের প্রতি আহ্বান জানাই, রোহিঙ্গা ইস্যু দ্রুত সমাধান করুন। তাদের সম্মান ও অধিকারের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.