Friday, July 18, 2025

পিবিআই: স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে তরুণকে হত্যা; আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন


কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সড়কের পাশ থেকে ২২ বছর বয়সী ইমতিয়াজ নামের এক তরুণের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১২ জুলাই হোমনা-গৌরীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জিয়ারকান্দি গুলবাগ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানায়। পিবিআই জানায়, বরিশালের এক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে ইমতিয়াজের দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। পরে তিনি ওই ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান। এই বিষয় জানতে পেরে ইমতিয়াজকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে ছিলেন ওই ব্যক্তির ছেলে ও শ্যালক। সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, “ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।” নিহত ইমতিয়াজ বরিশালের কাজীরহাট থানার রতনপুর (চিলমারি) গ্রামের মো. দুলাল হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পরদিন তার বাবা তিতাস থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তি, তার ছেলে ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলে পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মেরুন রঙের পুরোনো নোয়া গাড়ি এবং গাড়ির চালকের আসনের পাশের ড্রয়ার থেকে ইমতিয়াজের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। বুধবার আসামিরা কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।” আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাতে তিনি আরও বলেন, “প্রধান আসামি পেশায় চালক। তিনি ঢাকায় গাড়ি চালাতেন, আর তার পরিবার বরিশালে থাকেন। ইমতিয়াজ কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী এবং পরে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এরপর থেকে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১০ জুলাই ইমতিয়াজকে কৌশলে ঢাকায় ডেকে এনে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিতাসে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।” তবে ইমতিয়াজের বাবা দাবি করেন, তার ছেলের সঙ্গে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর কোনো অবৈধ সম্পর্ক ছিল না। তবে ওই ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন।

Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.